ajkerjibon.com স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত হলেন জবি শিক্ষক রাজীব মীর - ajkerjibon.com

  • রবিবার
  • ২২শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং
  • ৭ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ১২:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০১৭
স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত হলেন জবি শিক্ষক রাজীব মীর

ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মীর মোশারেফ হোসেন (রাজীব মীর) স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম শিক্ষক হিসেবে তিনি স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত হলেন।

তিনটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর রবিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, ‘রাজীব মীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে সিন্ডিকেট সভায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।’

এদিকে, রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মীর মোশারেফ হোসেন-এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে চাকরি হতে বরখাস্ত করা হয়।

এর আগে ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল সাংবাদিকতা বিভাগের এক ছাত্রী রাজীব মীরের বিরুদ্ধে একাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকি প্রদান, যৌন হয়রানিসহ বেশকিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে। এসময় তিনি মুঠোফোন রেকর্ডসহ প্রমাণাদিও উপস্থাপন করেন।

ওই ছাত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ট্রেজারার সেলিম ভূঁইয়াকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে একই বছরের ১১ এপ্রিল রাজীব মীরকে বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সব ধরনর একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি প্রদান করে।

এই কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রমাণ মেলায় গত বছরের ২৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭১তম সিন্ডিকেট সভায় রাজীব মীরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে এপ্রিলে ওই ছাত্রীর অভিযোগের পর সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের একাধিক ছাত্রী রাজীর মীরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। এর প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলে রাজীব মীরের যৌন হয়রানির তদন্ত চলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা লাইসা আহমেদ লিসার নেতৃত্বে ওই কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, জবির বাংলা বিভাগের শিক্ষিকা ড. হোসনে আরা বেগম জলিসহ কয়েকজন শিক্ষক ছিলেন।

এ তদন্ত চলাকালে অভিযোগকারীরা মুঠোফোন রেকর্ড, ফেসবুক চ্যাট, ম্যাসেজসহ বিভিন্ন প্রমাণা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ছাত্রীদের সিনেমা হলে যেতে বাধ্য করা, বাসায় নিয়ে যাওয়া, একসাথে একাধিক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টাসহ নানা বিষয় ওঠে আসে।

পরে এই কমিটির তদন্তেও রাজীব মীর দোষী সাব্যস্ত হন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলের প্রতিবেদনে রাজীব মীরের বিরুদ্ধে ‘জোর ব্যবস্থা’ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

এর আগে রাজীব মীরের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে ক্যাম্পাসে দুটি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনও আন্দোলনে নেমেছিল।

এদিকে দুটি তদন্তে রাজীব মীরের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের তৎকালীন সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে উচ্চতর তদন্ত কমিটি (ট্রাইবুন্যাল) গঠন করা হয় গত বছরের নভেম্বরে। ওই কমিটির অন্য দুই সদস্য ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব বেলায়েত হোসেন তালুকদার ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নূরে আলম আবদুল্লাহ।

এই কমিটি গত বছরের নভেম্বরে রাজীব মীরকে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত (গণশুনানি) করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজীব মীর অভিযোগকারী ছাত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন বলে গণশুনানিতে দাবি করেছিলেন। এ কারণে তিনি বরাবর ক্ষমা চেয়ে আসছেন বলেও বিচারকদের জানান। জবাবে বিচারকরা জানান, মানসিক ভারসাম্যহীনরা শিক্ষক হতে পারে না।

পরে এই কমিটির প্রতিবেদনেও অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় রাজীব মীরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

এর আগে ২০০৪ সালের ২৯ মার্চ পূর্বতন কর্মস্থল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে ছাত্রীরা রাজীব মীরকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল, যা জাতীয় দৈনিকগুলোতেও প্রকাশিত হয়েছিল। ওই বিশ্ববিদ্যালয়েও তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছিল।

এছাড়া ২০১৪ সালের ৬ এপ্রিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজীব মীরের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের মদদ দেওয়া, ছাত্রীদের অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়াসহ নানা অভিযোগ এনে তার অপসারণ দাবি করে কয়েক শ’ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে স্মারকলিপিও দিয়েছিল।

বিষয়:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ