ajkerjibon.com সুখী তারকা দম্পতিদের গল্প - ajkerjibon.com

  • রবিবার
  • ২২শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং
  • ৭ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৭
mou

শোবিজ জগতের চারদিকে এখন শুধু ভাঙনের সুর। আজ বিয়ে তো কাল ডিভোর্স-অনেকটা এভাবেই চলছে বর্তমান তারকা দম্পতিদের সংসার। সম্প্রতি খুব অল্প সময়ের মধ্যে তারকা দম্পতি তাহসান-মিথিলা, মডেল স্পর্শিয়া-রাফসান ও তরুণ কণ্ঠশিল্পী হৃদয় খানের সঙ্গে অভিনেত্রী সুজানার ডিভোর্সের পর সেটা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। অথচ এই জগতেই এমন অনেক তারকা জুটি আছেন যারা অনেক বছর আগে বিয়ে করে এখনও সুখে ঘর সংসার করছেন। পাশাপাশি সামলে যাচ্ছেন যার যার পেশাগত দায়িত্বও। চলুন তবে জেনে নেই তাদের মধ্যে অন্যতম কয়েকজন তারকা দম্পতিদের সম্পর্কে।

ওমর সানী-মৌসুমী: দুজনেই রূপালী পর্দার মানুষ। এক সঙ্গে জুটি বেধে অভিনয়ও করেছেন বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ছবিতে। দুজনেই অভিনয়ে আসেন ৯০ এর দশকে। তখনকার সময়ে সালমান শাহ-শাবনূর এবং মৌসুমী-ওমর সানী জুটির ছবি মুক্তি পেলে সমর্থক গোষ্ঠীর মাঝে যুদ্ধের দামামা বেজে যেত।  ১৯৯৪ সালে ‘দোলা’ ছবিতে অভিনয় করার সময় এ জুটির মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে। সেখান থেকে প্রেম। ১৯৯৬ সালে সে প্রেম গড়ায় পরিণয়ে। ২১ বছরের বৈবাহিক জীবনে পুত্র ফারদিন এহসান স্বাধীন ও কন্যা ফাইজাকে নিয়ে এখনও সুখের সংসার মৌসুমী-সানীর।

নাঈম- শাবনাজ: ৯০ এর দশকের সাড়া জাগানো নাঈম-শাবনাজ জুটির রূপালী পর্দায় অভিষেক একই সঙ্গে একই ছবিতে। ১৯৯০ সালে প্রবীণ পরিচালক এহতেশামের ‘চাঁদনী’ ছবিতে একই সঙ্গে অভিষেক হয় এ জুটির। ওই সময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় ছবিটি। নাঈম-শাবনাজ জুটি বেধে অভিনয় করেছেন ২০টির মতো ছবিতে। যার প্র্রতিটিই সুপারহিট। ক্যারিয়ারের মধ্য গগনে শাবনাজ তার প্রথম ছবির নায়ক নাঈমকে বিয়ে করে ফেলেন। ১৯৯৬ সালে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন এ জুটি। সংসারে মনোনিবেশ করায় আস্তে আস্তে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চলচ্চিত্র জগৎ থেকে নিজেদের গুটিয়ে দেন। দীর্ঘ ২১ বছরের বৈবাহিক জীবনে আজও তারা অন্যতম সুখী তারকা দম্পতি হিসেবে পরিচিত।

তৌকির- বিপাশা: অভিনয় জগতের আরেক অন্যতম সুখী দম্পতি তৌকির আহমেদ ও বিপাশা হায়াত। দুজনেই নাট্যজগতের বাসিন্দা। একসঙ্গে বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন তারা। তবে বর্তমানে স্বামী তৌকির আহমেদ চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি ‘রূপকথার গল্প’, ‘জয়যাত্রা’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘অজ্ঞাতনামা’ ও ‘হালদা’র মত জনপ্রিয় পাঁচটি চলচ্চিত্র নির্মাণও করে ফেলেছেন। কয়েকটি ছবিতে তিনি অভিনয়ও করেছেন। অন্যদিতে স্ত্রী বিপাশা হায়াত নাট্যজগতের মানুষ হলেও দেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘আগুনের পরশমনি’ ছবিতে অভিনয় দিয়ে সকলের নজর কাড়েন। ১৯৯৯ সালে জনপ্রিয় অভিনেতা আবুল হায়াত কন্যা অভিনেত্রী বিপাশা হায়াতের সঙ্গে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় তৌকির আহমেদের। অভিনয় জগতের জুটি, জুটি বাধেন জীবন সংসারেও। পারিবারিক জীবনে মেয়ে আরিশা আহমেদ ও ছেলে আরীব আহমেদকে নিয়ে গত ১৮ বছর ধরে সুখে সংসার করছেন এ জুটি।

জাহিদ হাসান-মৌ: বাংলা নাট্য জগতের অতি সুপরিচিত মুখ অভিনেতা জাহিদ হাসান। যার বৈচিত্রময় অভিনয় গুণে মুগ্ধ হননি এমন দর্শক খুব কমই আছেন। অভিনয় করেছেন সাতটি বাংলা ছবিতেও। অন্যদিকে স্ত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ নাট্যজগতে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে না পারলেও মডেলিং ও নৃত্যশিল্পী হিসেবে দেশব্যাপী তিনিও সুপরিচিত। এ তারকা জুটিরও শোবিজ জগতে আগমন ৯০ এর দশকে। জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র অনুষ্ঠানে গিয়ে পরিচয় হয় জাহিদ হাসান ও মৌ-য়ের। সেই পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, বন্ধুত্ব থেকে প্রেম, তারপর বিয়ে। ১৯৯৫ সালে বিয়ে করেন এ তারকা জুটি। দীর্ঘ ২২ বছর পর এখনও তারা বিনোদন জগতের অন্যতম সেরা সুখী দম্পতি হিসেবে পরিচিত।

রিয়াজ-তিনা: বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক রিয়াজ। বিমান চালক থেকে চাচাতো বোন ববিতার হাত ধরে চলচ্চিত্র জগতে পা রেখে প্রথম ছবি ‘বাংলার নায়ক’ দিয়েই যিনি সকলের নজর কাড়েন। সেই থেকে ছবি ও নাটক দুই জায়গাতেই দুর্দান্ত প্রতাপের সাথে অভিনয় করছেন সিনেজগতের অন্যতম সফল এ অভিনেতা। রিয়াজের সঙ্গে শাবনূর ও পূর্ণিমার জুটি খুবই জনপ্রিয়। ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর ২০০৪-এর বিনোদন বিচিত্রার ফটো সুন্দরী বিজয়ী মডেল মুশফিকা তিনার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বিয়ের পর রিয়াজ অভিনয়ে নিয়মিত থাকলেও তাঁর স্ত্রীকে আর মডেলিংয়ে দেখা যায়নি। আট বছর পর ২০১৫ সালে কন্যা সন্তানের বাবা হন রিয়াজ। ১০ বছরের বৈবাহিক জীবনে কোনো প্রকার সমালোচনা ছাড়াই সুখে সংসার করছেন এ তারকা দম্পতি।

আলমগীর-রুনা লায়লা: দুই জগতের দুই কিংবদন্তী নায়ক আলমগীর ও সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। সত্তর, আশি ও নব্বইয়ের দশকের সাড়া জাগানো অভিনেতা আলমগীর এখনও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন মাঝেমধ্যে। সম্প্রতি তিনি ছবি নির্মাণের কাজেও হাত দিয়েছেন। অন্যদিকে সত্তরের দশক থেকে মিষ্টি সুরের জাদুতে সব শ্রেণির মানুষকে বিমোহিত করে রেখেছেন কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা। সেই হিসেবে তাদেরকে কিংবদন্তী দম্পতি বললেও ভুল হবে না। ১৯৭৩ সালে গীতিকার খোশনুর আলমগীরকে প্রথমে বিয়ে করেন আলমগীর। সে ঘরে জন্ম হয় একমাত্র কন্যা আঁখি আলমগীরের। যিনিও বর্তমানে বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। খোশনুরের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর ১৯৯৯ সালে রুনা লায়লাকে বিয়ে করেন আলমগীর। গত ১৮ বছর ধরে দুই মেয়ে নিয়ে সুখেই সংসার করছেন কিংবদন্তী এ তারকা দম্পতি।

বিষয়:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ