ajkerjibon.com ‘বিয়ে নয়, আত্মহত্যা করতে চায় মেয়েরা’ - ajkerjibon.com

  • রবিবার
  • ২২শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং
  • ৭ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০১৭
water

মনোবাসনা যতই তীব্র হোক, বউ জোটাতে হিমশিম খান গ্রামের যুবকরা। ভিনগ্রামের মেয়ে দূরের কথা, নিজের গ্রামেও দেখা দিয়েছে পাত্রীর আকাল। এর একমাত্র কারণ পানির তীব্র সংকট।

উত্তরপ্রদেশের মাহোবা জেলার একরত্তি গ্রাম মাহোবা। গত কয়েক প্রজন্ম যাবৎ এই গ্রামে খাবার পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। শুধু এই গ্রামই নয়, আশেপাশে কোনও পুকুর-খাল-বিল এমনকি কুয়ার পানিও শুকিয়ে গেছে।

শুধু তাই নয় মাহোবা ও হামিরপুর- এই দুই জেলার মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থানের কারণে পানির জোগানের জন্য পাইপলাইন বসানোর ব্যবস্থা করেনি সরকারও।

সামাজিক রীতি অনুযায়ী, পানি আনার দায়িত্ব পরিবারের মহিলাদের। প্রতিদিন কলসি-বালতি নিয়ে ৪ কিলোমিটার দূরে চন্দ্রওয়াল নদীর তীরে পৌঁছাতে হয়। প্রখর রোদের তাপে নদী শুকিয়ে গিয়েছে। পানির খোঁজে তাই নদীর পারে ১০ ফিট গভীর গর্ত খুঁড়েছেন মেয়েরা। এই কুয়াই এখন খান্না গ্রামের তৃষ্ণার্ত বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা।

পানির অভাবে ধুঁকতে থাকা গ্রামে দেখা দিয়েছে নানান সমস্যা। যার অন্যতম হলো পাত্রীর সন্ধান পাওয়া। খান্না গ্রামের কোনও পাত্রকেই মেয়ে দিতে রাজি নন আশেপাশের গ্রামবাসীরা।

প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা পানির অনুসন্ধানে কঠোর পরিশ্রম করে জীবন কাটাতে চান না বিয়ের উপযুক্ত কোনও মেয়ে। অবস্থা এমনই যে, নিজেদের গ্রামেও কনে খুঁজে পাচ্ছেন না খান্নাবাসী যুবকরা।

মেয়েদের সাফ কথা, শৈশব থেকে রোজ পানি জোগাড় করার নিদারুণ অভিজ্ঞতা বিয়ের পরেও কেউ ভোগ করতে চান না। বরং অন্য গ্রামে শ্বশুরবাড়ি হলে তবু এই সমস্যার হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

গ্রামের মেয়ে সুশীলা যেমন জানিয়েছেন, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানি আনতে গিয়ে জীবন কেটেছে। বিয়ে করতে তাই কোনও রকম ইচ্ছে নেই। তার চেয়ে বরং আত্মহত্যা করা ভালো।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ