ajkerjibon.com কামালের প্রার্থিতা নিয়ে নিঃসংশয় নেতাকর্মীরা - ajkerjibon.com

  • রবিবার
  • ২২শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং
  • ৭ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-১২
নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ১১:১২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৭
kamal

ঢাকার অতি গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর একটি ঢাকা-১২। শিল্পাঞ্চল ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এই এলাকায় অবস্থিত বলে নির্বাচনে আলাদা মনোযোগ কাড়ে এখানকার প্রার্থীরা। আবার স্থানীয় অধিবাসীদের চেয়ে অস্থানীয় ভোটাররা নির্বাচনে জয়-পরাজযে বড় নির্ধারক হয়ে দাঁড়ায়।

একানব্বইয়ের পর সব কটি নির্বাচনে দেখা গেছে, এই আসনে বিজয় প্রার্থীরা পরে জাতীয়ভাবে পরিচিতি পেয়েছেন, আলোচিত হয়েছেন। কেউ কেউ হয়েছেন সমালোচিত।

গণতন্ত্র-উত্তর একাইনব্বইয়ের নির্বাচনে রাজনীতিতে একেবারেই নতুন মুখ মেজর (অব.) আবদুল মান্নান এই আসনে নির্বাচিত হন বিএনপির টিকিটে। ছিয়ানব্বইয়ে আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচিত হন নতুন মুখ ডা. এইচ বি এম ইকবাল, যিনি পরে বিরোধী দলের মিছিলে গুলি ছুড়ে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন। ২১ সালের নির্বাচনে মেজর মান্নান আবার বিজয়ী হলেও পরে দল থেকে পদত্যাগের কারণে আসনটি শূন্য হলে তাতে উপনির্বাচনে  নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির মোসাদ্দেক আলী ফালু। বিপুল কারচুপির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয় এই উপনির্বাচন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান আসাদুজ্জামান খান কামাল, যিনি তখন তেমন পরিচিত ছিলেন না।

এবারও তাদের নির্বাচনে দেখা যেতে পারে। তবে বর্তমান এমপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়া অন্যদের নিয়ে বড় পরিসরে তেমন আলোচনা নেই।

অবশ্য হিসাবমতো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আরো এক বছর বাকি থাকলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নেতাকর্মীদের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে আরো আগেই। এলাকায় গণসংযোগ করছেন বিভিন্ন দলের মনোনয়ন-প্রত্যাশীরা। ঢাকার যে দু-তিনটি আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের স্থানীয নেতাকর্মীদের মধ্যে বর্তমান এমপির একচ্ছত্র আধিপত্য, তার একটি এই আসনটি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড তথা শিল্পাঞ্চল তেজগাঁও, শেরেবাংলা নগর ও রমনার একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২ আসনটি ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ঢাকা-১০ আসনের অংশ ছিল।

২০০৮ সালে আসন পুনর্বিন্যাসের পর টানা দুটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসাদুজ্জামান খান কামাল নির্বাচিত হন এই আসনে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী সাহাবুদ্দিন আহমেদকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন। এরপর ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। মন্ত্রিসভায় তিনি প্রথমে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং পরে ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাকে পদোন্নতি দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।

আগামী নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক মাঠে আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর কথা শোনা যাচ্ছে বটে, কিন্তু আসাদুজ্জামান খান কামালের কর্মী-সমর্থক ছাড়া আর কারো তৎপরতা তেমন দেখা যাচ্ছে না। অনুচ্চস্বরে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ডা. এইচ বি এম ইকবাল ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরীর ।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, মনোনয়নপ্রত্যাশী সবাই নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তারা বিভিন্ন মিছিল, মিটিং ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তবে বর্তমান সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান খান কামালের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো সংশয় নেই বলে তারা জানান। সৎ ও সজ্জন হিসেবে এলাকায় জনপ্রিয় তিনি। এলাকার উন্নয়নের দিকেও তার নজর রয়েছে।  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও তিনি নির্বাচনী এলাকার নেতা-কর্মীদের নিয়মিত সময় দেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের এই সহসভাপতি। গত বছর তিনি মনোনীত হন এই দলীয় পদে।

শেরে বাংলা নগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাব্বির হোসেন মাসুদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ঢাকা-১২ আসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো বিকল্প নেই। তিনি সজ্জন ব্যক্তি। কর্মী-সমর্থকসহ সাধারণ জনগণ- সবার জন্য তার দোয়ার খোলা। তিনি জনগণের সমস্যা সমাধানে সব সময়ই সচেষ্ট থাকেন।

সাব্বির হোসেনের প্রত্যাশা, এলাকার জনগণের সমর্থন নিয়ে আবার নির্বাচিত হবেন আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বিষয়:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ