ajkerjibon.com উত্তরে কাইয়ুম ও হাসান: দক্ষিণে সোহেল ও নবী ভাগ হচ্ছে ঢাকা মহানগর বিএনপি - ajkerjibon.com

  • রবিবার
  • ২২শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং
  • ৭ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ৮:৩০ অপরাহ্ণ, মে ৫, ২০১৬
উত্তরে কাইয়ুম ও হাসান: দক্ষিণে সোহেল ও নবী ভাগ হচ্ছে ঢাকা মহানগর বিএনপি

 

 

   দলের প্রভাবশালী দুই নেতার নেতৃত্বে দুই দফায় ঢাকা মহানগর বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠার পর এবার কেন্দ্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটকে কার্যকরীভাবে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। এর অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের মধ্যেই মহানগরকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগে ভাগ করে কমিটি ঘোষণা করা হবে। প্রভাবশালী সিনিয়র নেতাদের স্থলে তাদের অনুসারী অপেক্ষাকৃত নবীন নেতাদের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থতার অভিযোগে সাদেক হোসেন খোকার নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি ভেঙে দেয়া হয়। এরপর মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে সদস্য সচিব করে ২০১৪ সালের ১৮ জুলাই ৫৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। একইসঙ্গে চার সিনিয়র নেতাকে দিয়ে করা হয় একটি উপদেষ্টা কমিটিও। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিশ্বাস ছিল এবার ঢাকা মহানগরীতে আন্দোলন চাঙ্গা হবে। কিন্তু ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী শুরু হয় টানা অবরোধ। আন্দোলন শুরুর পরপরই আত্মগোপনে চলে যান মির্জা আব্বাস, সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ সিনিয়র নেতারা। ফলে আন্দোলন
পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। এরপরেই ঢাকা মহানগরকে দুই ভাগে ভাগ করে নতুন করে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করেন দলের হাইকমান্ড। দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী মনে করছেন, নতুন এই উদ্যোগ কার্যকরী হতে পারে।
দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির নাম ঘোষণার পরেই নতুন নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করে ঢাকা মহানগরকে দুই ভাগে ভাগ করে কমিটি ঘোষণা করবেন বিএনপিপ্রধান। প্রথমে শীর্ষ ৫ নেতার (সুপার ফাইভ ) নাম ঘোষণা করা হবে। এরই মধ্যে খসড়া একটি তালিকাও তৈরি করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী উত্তরে সভাপতি হিসেবে নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ কাইয়ুম ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নগর বিএনপির সদস্য আহসান উল্লাহ হাসান নাম রয়েছে। আর দক্ষিণে নগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন নবীউল্লাহ নবী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরবর্তীতে সরকারবিরোধী আন্দোলন সফল করা এবং দেশের কেন্দ্রস্থলের সংগঠনকে শক্তিশালী করার বিষয়টি মাথায় রেখেই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ কমিটিতে ভাগ করা হবে। দুটি কমিটির নেতৃত্বে আসবেন নগর নেতারা। কেন্দ্রীয় তারকা নেতাদের অকারণে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। বিএনপি সূত্রমতে, এমএ কাইয়ূমের নাম উত্তরের সভাপতি তালিকায় থাকার অন্যতম কারণ নগর রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নগরজুড়ে তার অনুসারীদের সংখ্যা অন্য নেতাদের চেয়ে বেশি। এ ছাড়া মহানগর রাজনীতির নিয়ন্ত্রণকারী দলের প্রভাবশালী দুই নেতা মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকা দুই নেতার সঙ্গেই রয়েছে তার সুসম্পর্ক। অন্যদিকে উত্তরে বিশেষ করে মিরপুর অঞ্চলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ আহসান উল্লাহ হাসানের ভূমিকা সবসময়ই প্রশংসার দাবি রেখেছে। সঙ্গত কারণে সাধারণ সম্পাদকের হিসেবে তালিকায় তার নাম স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে তরুণ নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতার পাশাপাশি বর্তমান কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ইতিবাচক ভূমিকা পালনের জন্য দক্ষিণের সভাপতি তালিকায় উঠে এসেছে হাবীব-উন-নবী খান সোহেলের। এ ছাড়া মহানগর রাজনীতিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকলেও প্রভাবশালী সবার সঙ্গেই তার সম্পর্ক ভালো। আর সর্বশেষ আন্দোলনে ভূমিকার জন্য তালিকায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নবীউল্লাহ নবীর নাম আছে।
দুটি কমিটি গঠনের বিষয়ে নগর বিএনপির সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকা মহানগর বিএনপি দুই ভাগে ভাগ করার বিষয়টি দলের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। দলের অনেকেই মনে করেন দুই ভাগ করলে হয়তো সংগঠনের জন্য ভালো হবে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
উত্তরের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার তালিকায় থাকা আহসান উল্লাহ আহসান জানান, দুটি কমিটি গঠন হচ্ছে এমনই শুনেছেন। উত্তরের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাচ্ছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনই কিছু জানা নেই। তবে দেশনেত্রী যদি দায়িত্ব দেন, তাহলে যথাযথভাবে দায়িত্ব  পালন করব।10271433_1509198372636949_7647441685510827815_o

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ